হৃদয়গ্রাহী - গল্প । লেখক: হামিদুল ইসলাম রাজু



 দুয়েক ধরে ওদের মধুর প্রেমের সূচনা ঘটে, এমন কোনো মাস নেই , দিন নেই, যে দিনে বা মাসে দেখা সাক্ষাত হয় নি।  
প্রতিনিয়তই একটা নির্দিষ্ট রাখা পার্কে তারা গিয়ে মিলিত হয়ে মনের যতো কথা দুজন দুজনকে শেয়ার করে আনন্দ গুজব করে কাটিয়ে দিত।
 বছরের অর্ধেক দিন-ই মেয়েটা সেজেগুজে কপালে কালো টিপ পরে পার্কে আগে এসে ছেলেটার জন্য অধীর অপেক্ষায় থাকতো। 
 ছেলেটার সাথে একদিন কথা না হলে পাগলের মতো মুঠো ফোন দিয়ে কল করা শুরু করে দেয়।
 অস্থির হয়ে ওঠত। বিমর্ষ হয়ে লাল লাল টকটকে চোখের কোণে অশ্রু জমে এক এক ফোটা করে নাকের ডগা স্পর্শ করে বেহুঁশ হয়ে যেতো। 
 কর্ণিকার নামের মেয়েটি ছেলেটিকে এতো ভালোবাসে যা বললে গল্পের ইতিরেখা টানতে কষ্ট হবে। পাঠকদের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে কর্ণিকা কি ছেলেকে একাই ভালোবাসে?
 এটা ভাবলে বোধহয় ভূল ভাবছেন, কর্ণিকার ভালোবাসা পাওয়ার জন্য সে যা যা বিসর্জন দিতে হয়েছে তা সংগ্রহ করতে আগামী বিশ বছরেও সম্ভব হবে না। স্বীয় হৃদয় জুড়ে জীবনের চাইতে বেশি ভালোবাসে মেয়েটিকে। 
ভালোবাসার পরিমাপ করা যায় না, তবে অনুভব করা যায় যে, কর্ণিকা যতটুকু ভালোবাসে ছেলেটিও কোনো অংশে কম নয়। এবার বাস্তবতায় আসি, একদিন কর্ণিকা ছেলেটির সাথে ঘন্টা খানেক কথা বলতে বলতে মনের অজান্তেই দুষ্টুমি চাপল, এ কথা গুলো বলার পর কতটুকু কষ্ট পায়। নিজ চোখে দেখবো।
 যেই ভাবা সেই কাজ। ফোনে যোগাযোগ করে বেলা দুইটার সময় ছেলে মেয়ে দুজনে পার্কে আসলো। 
অন্যদিনের চাইতে ছেলেটাকে খুবই সুন্দর লাগছে, সাথে করে একটা গিফট এনে সর্বপ্রথম মেয়েটাকে দিয়েছে, আর ঐ গিফটটি বাসায় দেখার জন্য বলছে। এদিকে মেয়েটা কী করে কথা বলবে ভাবছিলো, আলতো করে গোপন হাসি দিয়ে অমলিন মুখে ছেলেটাকে বললো, বাবা আমায় বিয়ে ঠিক করে ফেলেছে ।
 বাবার সম্মান রাখতে গিয়ে তোমাকে চিরদিনের জন্য ভূলে যেতে হবে। 
আমাকে ভূলে যেও। 
মেয়েটি এমন ভাবে কাঁদোকাঁদো কন্ঠে কথাটি বলেছিলো ছেলেটি সত্যি ভেবে নিয়েছিলো। 
কোনো কথা না বলে বাসায় এসে চিৎকার করে গলা ফুপিয়ে লুকিয়ে কাদছে। 
কাঁদতে কাঁদতে অচেতন, নিরবদেহে বিছানায় শুয়ে থাকা চোখে স্পর্শ কান্নার ছাপ। 
বন্ধুদের সাথে সাপ্তাহ খানেক ধরে সাক্ষাত নেই। নিয়মমাফিক আহার থেকে বঞ্চিত। 
কেবল দেহখানী ক্রমশ দূর্বল ও রোগাক্রান্ত হয়ে যাচ্ছে।
"অসুস্থ শরীর নিয়ে বেচে থাকতে পারলেও অসুস্থ মন নিয়ে বেচে থাকা অসম্ভব"" ভাবতে ভাবতে ছেলেটা বাসা থেকে বের হয়ে বিশ্ব রোডের দিকে মনের ভিতরে লুকিয়ে রাখা কষ্ট গুলোকে নিয়ে ঘুরছিল। 
 হঠাৎ করে রাস্তা ভর্তি আনা গোনা যানবাহনে ভর্তি । 
শত শত মানুষের উপস্থিতি। 
আর বুঝতে বাকি নেই, পাগল ছেলেটা আর নেই ।
 রক্ত মাখা নিথর দেহটাকে বেষ্টন করে চতুর্দিকের মানুষরা কাদছে, প্রকৃতির নিদারুণ কষ্টের সুরে টপটপ কর বৃষ্টি পড়ছে।
 ঐদিকে মেয়েটি ছেলের মৃত্যুর কথা শুনে অজ্ঞান হয়ে যায়। জ্ঞান ফিরলে , মেয়েটি দৌড়ে গিয়ে ছেলেটার গিফট খুলে দেখলো একটা "আন্টি"। 
ও কাগজে লেখা ছিল, ""আমার মায়ের পছন্দে ক্রয় করা বউমার জন্য আন্টি"" যা তোমাকে উপহার দিলাম।""" দুহাত দিয়ে চিটি বুকের মধ্যে রেখে মেয়েটা অবিরত কাঁদছে, এখন কেদেই বা কী লাভ। 
 গল্পের সমাপ্তি তবে কথাগুলো নির্দ্বিদায় বলবো ভালোবাসার মানুষকে মন থেকে ভালোবাসুন, তবে ভালোবাসার মানুষকে এমনভাবে পরীক্ষায় ফেলে দিও না যা সইবার ক্ষমতা নেই। এর পরিণতি কেবল কষ্ট পীড়ণ আর বুকের ভেতর অসহ্য যন্ত্রণা। ।

হৃদয় গ্রাহী গল্প 

Post a Comment

0 Comments